এপ্রিল থেকে পুনরায় জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়াবে ওপেক প্লাস

ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে পুনরায় জ্বালানি তেলের উত্তোলন বৃদ্ধি শুরু করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র জানিয়েছে।

ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে পুনরায় জ্বালানি তেলের উত্তোলন বৃদ্ধি শুরু করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র জানিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংস্থাভুক্ত দেশগুলোয় গ্রীষ্মে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে, এমন প্রত্যাশায় উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা পণ্যটির বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়ায় দাম বেড়েছে। তাই পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে উত্তোলন বৃদ্ধি পুনরায় শুরু করবে ওপেক প্লাস। খবর রয়টার্স।

সূত্র আরো জানায়, আবার জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানো শুরু হলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) অন্যান্য সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পুনরায় বাজার অংশীদারত্ব অর্জন সম্ভব হবে। আগামী ১ মার্চ সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান, কুয়েত, ইরাক, আলজেরিয়া এবং ওমানের বৈঠক বসার কথা রয়েছে।

ওপেকভুক্ত দেশগুলো গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধি করেছে দৈনিক প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল, যা বিশ্বব্যাপী মোট চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশের সমান। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত মৌসুমি কম চাহিদার কারণে উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।

তিন ওপেক প্লাসসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী বৈঠকে আট সদস্য এপ্রিল থেকে উত্তোলন কোটা বৃদ্ধি পুনরায় শুরু করার দিকে ঝুঁকছে। সংশ্লিষ্ট আরো তিন সূত্রও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলবে। অন্যদিকে ওপেক, রাশিয়া ও সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ওপেকের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা আগের প্রান্তিকের তুলনায় দৈনিক চার লাখ ব্যারেল কমতে পারে। তবে চলতি বছরের মোট চাহিদা ২০২৫ সালের তুলনায় দৈনিক ছয় লাখ ব্যারেল বেশি হবে।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বসন্তকালে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চ ও এপ্রিল থেকে চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়বে। এতে বাজারে ভারসাম্য তৈরি হবে।

এর আগে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা চলতি বছর আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এ সময় পণ্যটির চাহিদা বাড়বে দৈনিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল, যা গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৮০ হাজার ব্যারেল কম। আইইএর বিশ্লেষকরা আরো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার কারণে ২০২৬ সালে জ্বালানি তেলের ব্যবহারও কমতে পারে।

আইইএর মাসভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে জ্বালানি তেলের উত্তোলনে কিছুটা বিঘ্ন দেখা গেলেও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত থেকে যেতে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালে চাহিদার তুলনায় বিশ্বব্যাপী পণ্যটির সরবরাহ ছাড়াতে পারে দৈনিক গড়ে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৪ শতাংশের সমান।

আরও